35 th BCS Eximanation 2014

৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। এর মাধ্যমে এক হাজার ৮০৩টি শূন্য পদের বিপরীতে সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। আবেদনপত্রের পুরো প্রক্রিয়া হবে অনলাইনে। আর এবার প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে ২০০ নম্বরের।
আজ মঙ্গলবার পিএসসি সচিবালয়ে একটি বৈঠকের পর এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পিএসসির চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪-এর গেজেট গতকাল সোমবার তাঁরা হাতে পেয়েছেন। এর পরই ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো। তিনি জানান, এবার ১০০ নম্বরের বদলে ২০০ নম্বরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে।
সাধারণ ক্যাডারে ৪৫৫ পদ
৩৫তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৪৫৫টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০টি, পুলিশে ৫০টি, ইকোনমিক ক্যাডারে ৪০টি, পররাষ্ট্রে ২০টি, তথ্য ক্যাডারে ১১টি, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে ১০টি, ডাকে ১০টি, আনসার ক্যাডারে চারটি, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে চারটি, সমবায় ক্যাডারে চারটি এবং খাদ্য ক্যাডারে দুটি পদ রয়েছে।

৩৫তম বিসিএসের পুরো বিজ্ঞাপনটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

কারিগরি ক্যাডারে পদ ৪৮৪টি
কারিগরি ক্যাডারে মোট পদ রয়েছে ৪৮৪টি। এর মধ্যে বিসিএস কৃষি ক্যাডারে ১০টি, সমবায় ক্যাডারে দুটি, বন ক্যাডারে দুটি, স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৩১৭ জন সহকারী সার্জন ও ৫৪ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন, পশুসম্পদ ক্যাডারে ২৯টি, গণপূর্তে ৩৩টি, রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারে ২১টি, সড়ক ও জনপথ ক্যাডারে তিনটি এবং পরিসংখ্যান ক্যাডারে পাঁচটি পদ রয়েছে।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে ৮২৯ জন প্রভাষক নেওয়া হবে। এর মধ্যে বাংলার ৯৬ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ৬৫, প্রাণিবিদ্যার ৩৪, ইংরেজির ৬৫, অর্থনীতির ৫০, দর্শনে ৫২, ইতিহাসে ৩৬, ইসলামি শিক্ষায় ২০, সমাজবিজ্ঞানে ৩৫, সমাজকল্যাণে ২৩, পদার্থবিদ্যায় ২৪, রসায়নে ৩১, উদ্ভিদবিদ্যায় ৩৫, কৃষিতে সাত, ভূগোলে ১৩, মনোবিজ্ঞানে পাঁচ, হিসাববিজ্ঞানে ৫০, ব্যবস্থাপনায় ১৩, গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে আট, মার্কেটিংয়ে ২১, হাদিসে এক, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে ১২, পালিতে এক, সংস্কৃতে তিন, পরিসংখ্যানে ছয়, গণিতে ১৩, আরবিতে দুই, কম্পিউটারে দুই, তাফসিরে তিন, নার্সারিন স্কুলে এক, শিশু বিকাশে দুই, গৃহ ব্যবস্থাপনায় দুই, খাদ্য ও পুষ্টিতে তিন, ব্যবহারিক শিল্পকলায় তিন, বস্ত্রপরিচ্ছেদে তিন এবং প্রাতিষ্ঠানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনায় একজন করে নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ইতিহাসে চারটি, ভূগোলে দুটি, গণিতে তিনটি, ইসলামিক আদর্শে তিনটি, চারু ও কারুকলায় চারটি, গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিংয়ে তিনটি, প্রফেশনাল ইথিক্সে ছয়টি, মেন্টাল হাইজেনে তিনটি, গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে একটি ও শিক্ষায় ছয়টি পদ রয়েছে।
অনলাইনে আবেদনপত্র
এবারও অনলাইনে বিসিএসের আবেদনপত্র পূরণ ও জমা দিতে হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে আবেদনপত্র পূরণ করা যাবে। আবেদন পূরণের শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর। তবে ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে যাঁরা অনলাইনে আইডি পাবেন, তাঁরা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে ফি জমা দিতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদনপত্র নেওয়া হবে না। কাজেই শেষ তারিখ ও সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যথেষ্ট সময় নিয়ে আবেদনপত্র জমাদান চূড়ান্ত করতে হবে।
এবার বিসিএস প্রিলিতে পরীক্ষার ফি ৭০০ টাকা। তবে প্রতিবন্ধী ও উপজাতিদের জন্য ১০০ টাকা। টেলিটকের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হবে।
বয়স ও স্বাস্থ্য
বরাবরের মতোই আবেদনের বয়সসীমা ২১ থেকে ৩০ বছর। ১৯৮৪ সালের ২ সেপ্টেম্বরের পর জন্ম, এমন কেউ আবেদন করতে পারবেন না। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ও স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য বয়সসীমা ২১ থেকে ৩২ বছর। আর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের জন্য শুধু উপজাতি প্রার্থীদের বেলায় বয়স ৩২ বছর। বয়স কম বা বেশি হলে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের জন্য পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি, ওজন অন্তত ৫৪ দশমিক ৫৪ কেজি হতে হবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে উচ্চতা পাঁচ ফুট এবং ৪৫ দশমিক ৪৫ কেজি হতে হবে। অন্যান্য ক্যাডারের জন্য ছেলেদের অন্তত পাঁচ ফুট এবং মেয়েদের চার ফুট ১০ ইঞ্চি হতে হবে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০০ নম্বরে
এবারই প্রথমবারের মতো ২০০ নম্বরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা। ২০০ নম্বরের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ৩৫, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে ৩৫, বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ৩০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবল‌িতে ২০, ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ১০, সাধারণ বিজ্ঞানে ১৫, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ১৫, গাণিতিক যুক্তিতে ১৫, মানসিক দক্ষতায় ১৫ এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনে ১০ নম্বর থাকবে।
প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর। ভুল উত্তরের জন্য আধা নম্বর কাটা যাবে। প্রিলিমিনারি টেস্টের বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
লিখিত পরীক্ষা ৯০০, মৌখিকে ২০০ নম্বর
সাধারণ ক্যাডারের প্রার্থীদের ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে বাংলায় ২০০, ইংরেজিতে ২০০, বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ২০০, আন্তর্জাতিক বিষয়ে ১০০, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতায় ১০০ এবং সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা দিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হবে। কারিগরি ক্যাডারের জন্য বাংলায় ১০০, ইংরেজিতে ২০০, বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ২০০, গাণিতিক যুক্তিতে ১০০ এবং সংশ্লিষ্ট পদের বিষয়ে ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। এ ছাড়া উত্তীর্ণদের ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে।
লিখিত পরীক্ষার ২০০ নম্বরের প্রতিটি বিষয়ের জন্য চার ঘণ্টার এবং ১০০ নম্বরের বিষয়ের জন্য তিন ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ ভাগ নম্বর পেতে হবে। কোনো বিষয়ে ৩০ শতাংশের কম নম্বর পেলে তিনি ওই বিষয়ে কোনো নম্বর পাননি বলে বিবেচিত হবেন। সিলেবাসও কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।